"আমার বাংলা ব্লগ"
আমি এ ব্লগ টা শুরু করেছি শুধু বাংলা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনারা ও এ আলোচনায় অংশ নিন।
আমার বই পড়তে অনেক ভাল লাগে । আপনাদের কেমন লাগে জানান। যে কোন বই পড়ার পর আপনাদের অনূভতির কথা আমাকে জানান।
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০১০
আজকে আমি চা খাব না , আজকে আমার মন খারাপ ।
চাঁদের সাথে আড়ি
আজকে আকাশ - আকাশ শুধুই
বন্ধ বাড়াবাড়ি ।
হাওয়ায় আমি ভাসবো না আজ
ভাসবে ধূলিকণা
আজ হবে না হাওয়ার সাথে
আমার বনিবনা ।
আজকে আমি চা খাব না , ঠান্ডা হবে চায়ের কাপ
আজকে আমি চা খাব না , আজকে আমার মন খারাপ ।
(আমার কেনা প্রথম কবিতার বই অনিক খানের “নট ফর সেল” থেকে নেওয়া।)
অনিক খান আমার প্রিয় ছড়াকার । কবিতা পড়ে যে আনন্দ পাওয়া যাই আমি তার কাছ থেকে জেনেছি।
মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০১০
কত রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় ও ভাই
ও ভাই রে ও ভাই
কত রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় ।।
আমি যেই দিকে তাকাই
অবাক বনে আমি যাই।
অর্থ কোন খুজে নাহি
পাই রে ভাই রে।।
কত রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় ।
দেখ ভাল জনে রইলো ভাঙ্গা ঘরে।
মন্দ যে সে সিংহাসনে চরে।।
সোনার ফসল ফলায় যে তার
দুই বেলা জুটে না আহার।।
হিরার খনির মজুর হয়ে
কানাকড়ি নাই।।
ও তার কানাকড়ি নাই।
কত রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়
ও ভাই রে ও ভাই
কত রঙ্গ দেখি দুনিয়া.।।
হীরক রাজার দেশে' আমার জীবনে দেখা ভাল সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তার চেয়ে ও প্রিয় এ গানটা।
গানটি গেয়েছেন অমর পাল।
যেভাবে আমার বই পড়ার শুরু।
আমি তখন নবম শ্রেণীতে পড়ি, সবে মাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে, যখন আমার এক কাকার কাছ থেকে হুমায়ূন আহামেদ এর একটা বইট নিয়ে আসি। বইটার নাম ছিল "বৃষ্টি বিলাস" । বইটা আমি পড়া শুরু করি রাতের বেলা। পড়তে শুরু করার পর থেকেই আমার মধ্যে এক অসম্ভব ভাললাগা অনূভতির সৃষ্টি হয়। এ অনূভতির কথা আমি কোন দিন ভুলতে পারব না। ১০৪ পৃষ্টার বই ছিল, ঐ রাতে আমি বইটা পড়া শেষ করে ঘুমাতে যাই। আমার চোখে ঘুম ছিল না ঐ রাতে, বই পড়ে যে এত আনন্দ পাওয়া যায় আমার এটা জানা্ ছিল না।
ঐ রাত থেকেই আমার বই পড়া শুরু। এর পর থেকেই আমি বই পড়া শুরু করলাম। যে বই ই আমি হাতের কাছে পাই তাই পড়তে শুরু করি। ইচ্ছা থাকলে ও তখন বই পড়তে পারতাম না কারন হাতের কাছে বই পাওয়া যেত না। এর মধ্যে আমার এস.এস.সি. পরীক্ষা শেষ হয় ।আমি ঢাকাতে আমার এক কাকার বাসাতে চলে আসি ঢাকার কোন কলেজে ভর্তি হব এ উদ্দেশ্যে। এখানে আসার পর আমি পড়ি সমরেশ মযূমদার এর “গর্ভধারিনী”। এ বই টা পড়ার আগ পর্যন্ত আমি জানতাম না যে অন্য লেখকদের বই পড়েও আনন্দ পাওয়া যায়।
কলেজে ভর্তি হবার পর প্রতি মাসে বাড়ি থেকে যে টাকা পাঠাত তা থেকে মাসের শুরুতেই আমি একটা বা দুটা বই কিনতাম। আমার ঐ সময় কেনা সব বই ই হুমায়ূন আহামেদ এর লিখা। আমি তখন হুমায়ুনে বই কিনতাম কারন ঐ বই গুলো কিনলে আমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারতাম যে আমি বইটা পড়লে আনদ পাব আমার টাকাটা জলে যাবে না। ঐ সময় আমার হিমুর বই পড়া শুরু হয়।
আমার বই পড়া আরো সহজ হয়ে গিয়েছিল “বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র”র ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির জন্য। আমি সত্যিই এ জন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা নাম মাত্র মাসিক চাদা নিয়ে য়ে সেবা দেয় তা সত্যিই প্রশংসা পাবার মত। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রর ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির তে আমি দুইটা একাউন্ট খোলি। প্রতি সপ্তাহে দুটা বই নিয়ে পড়তাম। শনি বারে আমাদের এখানে ( শান্তিনগর ) এ আসত এর আগের দিন দিন বিকেলে এজিবি কলোনিতে আসতো । আমি ওখান থাকে ও মাঝে মঝে বই নিয়ে আসতাম, তারপর ওই দিন রাত আর পরের দিনে বই গুলো পড়ে শেষ করতাম। আবার ঐ দিন বিকালে শান্তিনগর থেকে বই নিতাম।
বড় সুখের ছিল ওই দিনগুলা, এখন চিন্তা করতেই ভাল লাগে।
আর এখন আমি বই পড়ি কম্পিউটারে । বিভিন্ন সাইট থেকে ই-বুক নামিয়ে এগুলা পড়ি। যেমন কলকেই পড়ে শেষ করলাম হুমায়ুন আহামেদ এর ” মাতাল হাওয়া “।
সুন্দর বই ছিল বইটা । সে কথা আর এক দিন হবে। আজকের মত বিদায়। ভাল থাকবেন আপনারা।
রবিবার, ৬ জুন, ২০১০
ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকা
গিয়েছিলাম আমি সেথায় এক বন্ধুর আমন্ত্রনে।
মনে লয়ে কত ভাবনা,
ঘুরব ফিরব দেখব অজানা ।
মনের কথা বললাম আমি আমার বন্ধুটিরে
স্মৃতির পাতায় রাখা যায় কেমনে এ দিনটিরে।
আমার বন্ধু বলল .......
মনের পাতায় রাখার মত অনেক কিছুই আছে
যদি বন্ধু চল তুমি আমার সাথে সাথে ।
এখানে আছে ঐতি্হ্যের বাহক নান্নার বিরিয়ানী
আর আছে নাসু ফারুকের অমর বাকরখানি ।
ওহে আমার বন্ধু সরল
করো না আজি এ দিনটি গরল।
স্বাদ নাও গ্রহন কর এই দুটি বিস্ময়কে
ধন্য কর তুমি আমার চিরন্তন ঐতিহ্যকে।
সম্প্রতি আমার ছোট ভাই তার পুরান ঢাকা যাওয়ার প্রথম অভিজ্ঞতাকে
কবিতার মাধ্যমে এভাবেই বর্ণনা করেছে......।
শুক্রবার, ৪ জুন, ২০১০
আমার পড়া প্রথম বাংলা উপন্যাস " বৃষ্টি বিলাস " ।
আমি তখন নবম শ্রেণীতে পড়ি, সবে মাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে। এখন ও পুড়োদমে পড়া শুরু করি নি।ওই সময় আমার এক কাকারে তার বিদায় অনুষ্টানে হুমায়ুন আহামেদ এর “বৃষ্টি বিলাস” বইটা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। আমি ওই দিন বিকেলে কাকার কাছ থেকে এ বইটা নিয়ে আসি। পড়া শুরু করি ঐ দিন রাতের বেলা। পড়তে শুরু করার পর থেকেই আমার মধ্যে এক অসম্ভব ভাললাগার অনূভতির সৃষ্টি হয়। এ অনুভতির কথা আমি বলে বুঝাতে পারব না । বই পড়ে যে এত আনন্দ পাওয়া যায় আমার জানা ছিল না।
এর পর থেকেই আমার বই পড়া শুরু,এখন ও পড়ে যাচ্ছি। আমার পড়া এ সব বই এর অধিকাংশই হুমায়ুন আহামেদের। আর এ সব বই গুলা পড়ার সময় আমি ঐ একই আনন্দ বার বার পেয়েছি।
এই যেমন কিছু দিন আগে পড়লাম হুমায়ূন আহামেদের “হিমুর নীল জোছনা” আর “মাতাল হাওয়া”।
সে কথা আর এক দিন হবে। আজ এ পর্যন্তই। ভাল থাকবেন।