আপনাদের সবাইকে "আমার বাংলা ব্লগ" এ স্বাগতম জানাই। আমি এ ব্লগ টা শুরু করেছি শুধু বাংলা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আপনারা ও এ আলোচনায় অংশ নিন। আমার বই পড়তে অনেক ভাল লাগে । আপনাদের কেমন লাগে জানান। যে কোন বই পড়ার পর আপনাদের অনূভতির কথা আমাকে জানান।
চোখ ভরে যে দেখতে চাও
রঞ্জন রশ্মিটা চেনো তো?
বুক ভরে যে শ্বাস নিতে চাও
জানো তো অক্সিজেনের পরিমাণটা কত?
এত যে কাছে আসতে চাও
কতটুকু সংযম আছে তোমার?
এত যে ভালোবাসতে চাও
তার কতটুকু উত্তাপ সইতে পারবে তুমি?
কেউ কথা রাখে নি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখে নি ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলো শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে তারaপর কতো চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী আর এলোনা পঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি।
মামাবাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিলো, বড় হও দাদাঠাকুর তোমাকে আমি তিনপ্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর খেলা করে! নাদের আলী, আমি আর কতো বড় হবো? আমার মাথা এ ঘরের ছাদ ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায় তিনপ্রহরের বিল দেখাবে?
একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারি নি কখনো লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরা ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি ভিতরে রাস-উৎসব অবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরা কত রকম আমোদে হেসেছে আমার দিকে তারা ফিরেও চায় নি! বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও… বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুই সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসব আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!
বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিলো, যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালোবাসবে সেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে! ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছি দুরন্ত ষাড়ের চোখে বেঁধেছি লালকাপড় বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীলপদ্ম তবু কথা রাখে নি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ এখনো সে যে-কোনো নারী।
কেউ কথা রাখে নি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখে না!
আমি তখন নবম শ্রেণীতে পড়ি, সবে মাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে, যখন আমার এক কাকার কাছ থেকে হুমায়ূন আহামেদ এর একটা বইট নিয়ে আসি। বইটার নাম ছিল "বৃষ্টি বিলাস" । বইটা আমি পড়া শুরু করি রাতের বেলা। পড়তে শুরু করার পর থেকেই আমার মধ্যে এক অসম্ভব ভাললাগা অনূভতির সৃষ্টি হয়। এ অনূভতির কথা আমি কোন দিন ভুলতে পারব না। ১০৪ পৃষ্টার বই ছিল, ঐ রাতে আমি বইটা পড়া শেষ করে ঘুমাতে যাই। আমার চোখে ঘুম ছিল না ঐ রাতে, বই পড়ে যে এত আনন্দ পাওয়া যায় আমার এটা জানা্ ছিল না।
ঐ রাত থেকেই আমার বই পড়া শুরু। এর পর থেকেই আমি বই পড়া শুরু করলাম। যে বই ই আমি হাতের কাছে পাই তাই পড়তে শুরু করি। ইচ্ছা থাকলে ও তখন বই পড়তে পারতাম না কারন হাতের কাছে বই পাওয়া যেত না। এর মধ্যে আমার এস.এস.সি. পরীক্ষা শেষ হয় ।আমি ঢাকাতে আমার এক কাকার বাসাতে চলে আসি ঢাকার কোন কলেজে ভর্তি হব এ উদ্দেশ্যে। এখানে আসার পর আমি পড়ি সমরেশ মযূমদার এর “গর্ভধারিনী”। এ বই টা পড়ার আগ পর্যন্ত আমি জানতাম না যে অন্য লেখকদের বই পড়েও আনন্দ পাওয়া যায়।
কলেজে ভর্তি হবার পর প্রতি মাসে বাড়ি থেকে যে টাকা পাঠাত তা থেকে মাসের শুরুতেই আমি একটা বা দুটা বই কিনতাম। আমার ঐ সময় কেনা সব বই ই হুমায়ূন আহামেদ এর লিখা। আমি তখন হুমায়ুনে বই কিনতাম কারন ঐ বই গুলো কিনলে আমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারতাম যে আমি বইটা পড়লে আনদ পাব আমার টাকাটা জলে যাবে না। ঐ সময় আমার হিমুর বই পড়া শুরু হয়।
আমার বই পড়া আরো সহজ হয়ে গিয়েছিল “বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র”র ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির জন্য। আমি সত্যিই এ জন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা নাম মাত্র মাসিক চাদা নিয়ে য়ে সেবা দেয় তা সত্যিই প্রশংসা পাবার মত। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রর ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির তে আমি দুইটা একাউন্ট খোলি। প্রতি সপ্তাহে দুটা বই নিয়ে পড়তাম। শনি বারে আমাদের এখানে ( শান্তিনগর ) এ আসত এর আগের দিন দিন বিকেলে এজিবি কলোনিতে আসতো । আমি ওখান থাকে ও মাঝে মঝে বই নিয়ে আসতাম, তারপর ওই দিন রাত আর পরের দিনে বই গুলো পড়ে শেষ করতাম। আবার ঐ দিন বিকালে শান্তিনগর থেকে বই নিতাম।
বড় সুখের ছিল ওই দিনগুলা, এখন চিন্তা করতেই ভাল লাগে।
আর এখন আমি বই পড়ি কম্পিউটারে । বিভিন্ন সাইট থেকে ই-বুক নামিয়ে এগুলা পড়ি। যেমন কলকেই পড়ে শেষ করলাম হুমায়ুন আহামেদ এর ” মাতাল হাওয়া “।
সুন্দর বই ছিল বইটা । সে কথা আর এক দিন হবে। আজকের মত বিদায়। ভাল থাকবেন আপনারা।